দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশন একে একে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় অনেক স্টেশন সেবা দিতে পারছে না। এতে চালকদের দীর্ঘক্ষণ লাইনে অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সিএনজি স্টেশনে এ চিত্র দেখা যায়। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও গ্যাস পাননি। স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, লাইনে গ্যাসের চাপ আরও কমে যাওয়ায় সরবরাহ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
যেসব স্টেশন এখনও চালু রয়েছে, সেখানে গাড়ির চাপ বেড়ে যাওয়ায় ভোগান্তি আরও বেড়েছে। চালকদের অভিযোগ, গ্যাস নিতে পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তাদের কেউ কেউ দাবি করেন, সংকটকে কেন্দ্র করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
গ্যাসের চাপ আরও কমে যাওয়ায় তেজগাঁও, মিরপুর-১০সহ রাজধানীর কয়েকটি এলাকার সিএনজি স্টেশন অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। একই কারণে নারায়ণগঞ্জের ৩৩টি সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও কার্যত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
এদিকে, গত এক সপ্তাহ ধরে গ্যাস সংকটে শিল্পকারখানা ও আবাসিক গ্রাহকেরাও দুর্ভোগে রয়েছেন। বিশেষ করে গ্যাসনির্ভর পোশাক, ডাইং ও নিটিং শিল্পে উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। পর্যাপ্ত গ্যাসের চাপ না থাকায় অনেক কারখানায় উৎপাদন কমিয়ে দেওয়া হয়েছে, আবার কোথাও শ্রমিকদের বসিয়ে রাখতে হচ্ছে। বাসাবাড়িতেও রান্নার গ্যাসের সংকটে ভোগান্তি বেড়েছে।
গাজীপুরে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিল্পকারখানার বড় একটি অংশ গ্যাসনির্ভর। সেখানে ডাইং কারখানাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেক কারখানায় ডিজেল ব্যবহার করতে হচ্ছে, ফলে উৎপাদন ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাচ্ছে। সাভার, নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদীর শিল্পকারখানাগুলোর অবস্থাও একই রকম।
শিল্পমালিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে নির্ধারিত সময়ে রপ্তানি পণ্য পাঠাতে অতিরিক্ত খরচে বিমানপথে চালান পাঠাতে হতে পারে। এমনকি কিছু রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ারও ঝুঁকি রয়েছে। তাই দ্রুত গ্যাস সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এমএম/